ল্যান্ড শেয়ার হলো একটি প্লটের অবিভক্ত অংশ, যা কয়েকজন ক্রেতা একসঙ্গে কিনে নিজেদের নামে রেজিস্ট্রি করেন। পরে সেই জমিতে একটি ভবন নির্মাণ করা হয় এবং প্রত্যেক মালিক নির্দিষ্ট একটি ফ্ল্যাট পান। সাধারণত প্রথমে জমির দাম, পরে কিস্তিতে নির্মাণ খরচ পরিশোধ করতে হয়।
ঢাকায় জমির দাম এত বেশি যে একা একটি প্লট কিনে বাড়ি বানানো অনেকের পক্ষে সম্ভব হয় না। ল্যান্ড শেয়ার এই সমস্যার একটি সমাধান: কয়েকজন মিলে একটি প্লট কেনেন, তারপর একসঙ্গে ভবন বানান।
ল্যান্ড শেয়ার কীভাবে কাজ করে
- প্লট নির্বাচন: একটি প্লট ঠিক করা হয় এবং সেটিকে কয়েকটি শেয়ারে ভাগ করা হয় — সাধারণত যত ফ্ল্যাট হবে, তত শেয়ার।
- জমি রেজিস্ট্রি: প্রত্যেক ক্রেতা নিজের শেয়ার অনুযায়ী জমির অবিভক্ত অংশ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করেন।
- অনুমোদন ও নকশা: রাজউকের ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়।
- নির্মাণ: ডেভেলপার বা মালিকদের কমিটি নির্মাণ পরিচালনা করে; খরচ শেয়ার অনুযায়ী কিস্তিতে ভাগ হয়।
- হস্তান্তর: ভবন শেষ হলে চুক্তি অনুযায়ী প্রত্যেকে নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট বুঝে পান।
কারা ল্যান্ড শেয়ার কেনেন
- যারা রেডি ফ্ল্যাটের পুরো দাম একসঙ্গে দিতে পারছেন না
- যারা প্রথম দিন থেকেই জমির মালিকানা চান
- যারা নির্মাণ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারবেন
সুবিধা
- মালিকানা শুরু থেকেই: জমির অংশ আপনার নামে রেজিস্ট্রি হয়, শুধু ফ্ল্যাটের প্রতিশ্রুতি নয়।
- ধাপে ধাপে খরচ: জমি ও নির্মাণের খরচ আলাদা সময়ে দেওয়া যায়।
- খরচে সাশ্রয়ের সম্ভাবনা: ডেভেলপারের পুরো মুনাফা না দেওয়ায় প্রতি বর্গফুটে খরচ প্রায়ই কম পড়ে।
ঝুঁকি
- নির্মাণে দেরি: কোনো মালিক কিস্তি দিতে না পারলে বা অনুমোদন আটকে গেলে কাজ পিছিয়ে যায়।
- মালিকদের মতবিরোধ: নকশা, খরচ বা ফ্ল্যাট বণ্টন নিয়ে বিরোধ হতে পারে।
- কাগজের সমস্যা: জমির মালিকানা বা অনুমোদনে ঘাটতি থাকলে পুরো প্রকল্প আটকে যেতে পারে।
এই ঝুঁকিগুলো কমাতে কেনার আগে কী কী কাগজ দেখবেন, তা বিস্তারিত পড়ুন: ল্যান্ড শেয়ার কেনার আগে যে ৭টি কাগজ অবশ্যই যাচাই করবেন
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
ল্যান্ড শেয়ার কিনলে কি আমি জমির মালিক?
হ্যাঁ। আপনার শেয়ারের জমি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আপনার নামে রেজিস্ট্রি হয়। তবে জমিটি অবিভক্ত, অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোনো কোণ আপনার নয় — পুরো প্লটের একটি অংশ আপনার।
কোন ফ্ল্যাট আমি পাব, তা কীভাবে ঠিক হয়?
চুক্তিতে ফ্ল্যাট নম্বর, তলা ও দিক লেখা থাকা উচিত। লেখা না থাকলে পরে বণ্টন নিয়ে বিরোধ হতে পারে, তাই বুকিংয়ের আগেই তা নিশ্চিত করুন।
ল্যান্ড শেয়ার কি ঝুঁকিপূর্ণ?
ঝুঁকি আছে, তবে যাচাই করলে অনেকটাই কমানো যায়। দলিল, খতিয়ান, নামজারি, রাজউক অনুমোদন ও চুক্তিপত্র আইনজীবী দিয়ে যাচাই করে তবেই টাকা দিন।
প্রয়োজন আবাসনের সঙ্গে কথা বলুন
সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক। প্রয়োজন আবাসনের প্রতিটি প্রকল্পের কাগজ আপনি আমাদের অফিসে বসে দেখতে পারেন, আর আপনার আইনজীবীকেও সাথে আনতে পারেন। কল করুন +৮৮০১৩২৩২৮০০০৪ নম্বরে, অথবা আসুন লেভেল ৪, বাড়ি ২৩, রোড ১৬, নিকুঞ্জ ২, ঢাকা।
এই লেখা সাধারণ নির্দেশনা, আইনি বা আর্থিক পরামর্শ নয়। English version: What Is a Land Share? A Plain Guide for First-Time Buyers
Key takeaway
- প্রথম দিন থেকেই আপনি জমির রেজিস্টার্ড অংশের মালিক
- খরচ ধাপে ধাপে দেওয়া যায়
- নির্মাণে দেরি ও মালিকদের মতবিরোধ প্রধান ঝুঁকি
- কেনার আগে কাগজপত্র ও চুক্তি যাচাই জরুরি
